
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের আন্দোলন পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বাস ভাংচুর, সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও পুলিশের লাঠিচার্জে শিক্ষক-ছাত্রসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে ১০ ছাত্রকে। এছাড়া বন্ধ হয়ে গেছে ক্লাস ও পরীক্ষা।
জানা যায়, নবগঠিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে খসরু-মাহবুব পক্ষ পদবঞ্চিত গ্রুপ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গতকাল সকাল সাড়ে ৭টায় কুষ্টিয়া শহর থেকে ক্যাম্পাসমুখী ছেড়ে আসা শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীদের বাস আলামপুর এলাকায় অবরোধ করে বাসের চাবি ছিনিয়ে নেয়। পরে পুলিশ পাহারায় বাস ক্যাম্পাসে যাওয়া শুরু করলে ছাত্রলীগ বাসে হামলা চালিয়ে দুটি বাস ভাংচুর করে। এ সময় ৭ জন ছাত্রছাত্রী আহত হয়। আহতরা হলো চম্পা, রোজী, আকব্বর, লিটন, শাহীন, মামুন ও জিল্লুর।
ছাত্রলীগের হাতে ৭ ছাত্রছাত্রী আহত হওয়ার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে ক্যাম্পাসের বাসে থাকা ছাত্রছাত্রীরা বৃত্তিপাড়া এলাকায় ক্যাম্পাসের গাড়িসহ কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কের সব গাড়ি অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহজাহান আলী, প্রক্টর মাহবুুবুল আরফিন ও ছাত্র উপদেষ্টা ড. সাইদুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বাস বৃত্তিপাড়া থেকে কুষ্টিয়া শহরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। বাস কুষ্টিয়া শহরের কাস্টম মোড়ে পৌঁছলে সাধারণ ছাত্ররা আবারও কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। অবরোধ তুলতে পুলিশ ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এ সময় সহকারী প্রক্টর ও আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার তৌহিদুল আনামসহ ২০ ছাত্র আহত হয়। এ সময় পুলিশ ১০ ছাত্রকে আটক করে। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
আহতদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল ও সনো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ছাত্রলীগের কোন্দলে বারবার ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের প্রতিবাদে এবং ব্যর্থ প্রশাসনের পদত্যাগের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ১০টায় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান তুহিনের নেতৃত্বে একদল কর্মী শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করে এবং শিক্ষকদের গাড়ি আটকে দেয়। এরপর ছাত্রলীগ মেইন গেটে বিক্ষোভ মিছিল করে।
দুপুর ২টায় ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস কর্নারে সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অছাত্র, পেশাজীবীদের দিয়ে গঠিত কমিটি বাতিল, প্রক্টরের পদত্যাগ, গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কর্তৃক ২০ নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। দাবি আদায়ে গতকাল থেকে ক্যাস্পাসে লাগাতার ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ কর্মী শিমুল, মুকুট, মিরাজ, ঝংকার, জাহিদ প্রমুখ।
ইবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান তুহিন বলেন, প্রশাসনের ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে একদল সন্ত্রাসী বারবার ক্যাম্পাস অচল করছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।
প্রক্টর মাহবুবুল আরফিন বলেন, আমরা ক্যাম্পাস শান্ত ও সচল করার চেষ্টা করছি। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শহীদ মোহাম্মদ রেজওয়ান এক বিবৃতিতে বলেন, প্রশাসনের ব্যর্থতার সুযোগে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বারবার বিশ্ববিদ্যালয় অচল হচ্ছে। আমরা ছাত্রলীগ কর্তৃক শিক্ষক লাঞ্ছিত ও পুলিশের হাতে শিক্ষক আহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। একই ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও জাসদ।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৭ বছর পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কাউন্সিল হয়।
কাউন্সিলের তিন মাস পর গত ১৯ মে ছাত্রলীগের কেন্দ্র থেকে জাহাঙ্গীর হোসেনকে সভাপতি এবং শামসুজ্জামান তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে ইবি ছাত্রলীগের ৫ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কেন্দ্র ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে পদবঞ্চিত খসরু এবং নবগঠিত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুজার গিফারী গাফ্ফার ও আনিচুজ্জামান লিটনের অনুগত নেতাকর্মীরা আন্দোলন শুরু করে। কমিটিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’পক্ষে গত তিন মাসে তিনবার সংঘর্ষ হয়।
No comments:
Post a Comment