Saturday, July 24, 2010

প্রকৌশলীদের সাথে মতবিনিময়কালে এটিএম আজহার: দেশ ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে

জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, দেশ আজ ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এভাবে অগ্রসর হতে থাকলে দেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারছে না। এ ধরনের পরিস্থিতি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। সংবিধান সংশোধনে গঠিত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ‘৭২-এর সংবিধান দেশের ৪০ হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মী হত্যা ঠেকাতে পারেনি, রক্ষী বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন বন্ধ করতে পারেনি, ‘৭২-এর সংবিধান দেশের মানুষকে শান্তি দিতে পারেনি। বরং ‘৭২-এর সংবিধান দেশকে একদলীয় বাকশালী শাসনের দিকে নিয়ে গেছে। আবারো দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েম করতে চাইলে জনগণ তা বাস্তবায়ন হতে দিবে না। সংবিধান সংশোধনে গঠিত একপেশে কমিটিতে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হতে পারে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি দেশের পরিস্থিতিতে পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, দেশ অনিশ্চিত যাত্রা করেছে। অভিভাবকহীন দেশকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। তিনি সবাইকে দেশ, স্বাধীনতা, মানুষকে রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।
গতকাল শুক্রবার মগবাজারস্থ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে ফ্যাসিস্ট ও ব্যর্থ সরকারের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রকৌশলীদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান। বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুল ও মাওলানা আবদুল হালিম। প্রকৌশলীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী শেখ আল আমিন, প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইসহাক, স্কোয়ার্ডন লিডার (অব:) খাজা মইন উদ্দিন, আবদুল জলিল, আবদুস সামাদ মারুফ, আজিজুর রহমান।
এটিএম আজহার বলেন, গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই। আইন শৃংখলা পরিস্থিতিও সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। যেই পুলিশ দিয়ে সরকার জনগণের নিরাপত্তা দিবে, তাদেরই সরকার নিরাপত্তা দিতে পারছে না। ৩ পুলিশকে এক সাথে প্রাণ দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, দেশ আজ ভয়াবহ অবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এভাবে অগ্রসর হতে থাকলে দেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, যা কেউ কল্পনাও করতে পারছে না। এ ধরনের পরিস্থিতি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়।
ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ২০০৮ সালের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সরকারের ১৮ মাসে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আন্দোলনের কোন কর্মসূচি দেয়া হয়নি। তারপরও তারা স্বাচ্ছন্দে দেশ চালাতে পারেনি। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। ১৮ মাসে শত শত লোক খুন হয়েছে। আওয়ামী লীগ-আওয়ামী লীগ, যুবলীগ-ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগ-ছাত্রলীগের মধ্যে মারামারিতে খুন হয়েছে অনেকে। নিজেদের মধ্যে মারামারি হলে সেখানে জামায়াত ও শিবির খোঁজা হয়। মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যও বিপরীতমুখী কথা বলেন। সমন্বয়হীনতা দেখলেই জামায়াত ও শিবির খোঁজা হলে, তাহলে তো মন্ত্রিসভায় এরকম কেউ আছে কিনা তা বের করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, এভাবে সবখানে জামায়াত ও শিবির খোঁজার মধ্য দিয়ে সরকারের দেউলিয়াত্ব ও দেশ পরিচালনায় ব্যর্থতার চিত্র ফুটে ওঠে।
এটিএম আজহার সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে বলেন, সব জায়গায় নিজেদের লোক বসালেই দেশ চালানো যায় না। যোগ্যতার প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আসলে বিরোধী দলের ভূমিকায় যতটা পারঙ্গম, সরকার পরিচালনায় তারা ততটাই ব্যর্থ। দেশ পরিচালনায় তারা কখনই সততা, ন্যায়-নিষ্ঠতা-দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দিতে পারেনি। ‘৭২-’৭৫, ১৯৯৬-২০০১ ও বর্তমানের ১৮ মাসের শাসনমালই তার প্রমাণ। তিনি আরো বলেন, এখন নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই ৪০ বছর আগের যুদ্ধাপরাধ ইস্যু সামনে নিয়ে এসেছে। তারা প্রথমে বলেছিল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে। আইনমন্ত্রী আমেরিকা থেকে সফর করে এসে বললেন, মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার করবেন। তিনি বলেন, মানবতা বিরোধী অপরাধ শুধু কি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে হয়েছে? এখন হচ্ছে না? জাতীয় নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে একের পর এক মামলা দিয়ে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে, এটা মানবতা বিরোধী অপরাধ নয়? ওয়ার্ড কাউন্সিলর চৌধুরী আলম, শিবিরের গোলাম মোর্তুজাসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে গুম করে ফেলা হচ্ছে। এটা চরম মানবতা বিরোধী অপরাধ নয়? তিনি বলেন, এভাবে অত্যাচার নির্যাতন, গ্রেফতার করে দেশ চালাতে পারবেন এটা মনে করলে ভুল করবেন। ভুলে গেলে চলবে না, মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য আপনাদেরও একদিন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, যুদ্ধাপরাধীরা কখনই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারে না। তারা আবার সেই দেশে মন্ত্রী হতে পারে না। জনগণের সামনে ঘুরে বেড়াতে পারে না। যারা যুদ্ধাপরাধী তারা হয় কারাগারে থাকে, না হয় পালিয়ে থাকে। তিনি বলেন, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ জামায়াত নেতৃবৃন্দ পালিয়েও ছিলেন না আবার কারাগারেও ছিলেন না। তারা জনগণের ভোটে বার বার নির্বাচিত হয়েছেন, মন্ত্রীও হয়েছেন। তারা জনগণের সাথেই ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, পৃথিবীর যেখানেই যুদ্ধাপরাধীদের কথা শুনা যায়, তাদের কেউ কারাগারে ছিলেন অথবা পালিয়ে ছিলেন। সেখান থেকেই তাদের বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে। তিনি বলেন, যাদের সাথে এই অপরাধের কোন সম্পৃক্ততা নেই, তাদেরই বিচারের নামে হয়রানি করা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় মানবতা বিরোধী অপরাধ। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, অতীতে ফেরাউন নমরূদ দুর্দান্ত প্রতাপের সাথে দেশ শাসন করেছিল। কিন্তু তাদেরও পতন হয়েছে। অতএব সংযত হোন, আল্লাহকে ভয় করুন, জনগণকে ভয় করুন। তিনি উল্লেখ করেন, জালিমের হাত যত প্রসারিত হবে, আল্লাহর সাহায্য তত নিকটে আসবে। তিনি অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন।
এটিএম আজহার বলেন, ইসলাম মানবতার ধর্ম, শান্তির ধর্ম। ইসলামের সাথে জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসের কোন সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সাথে কখনই কোন জঙ্গি সংগঠনের কোন সম্পর্ক ছিল না। বরং আওয়ামী লীগের শাসনামলেই জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে। তিনি বলেন, জঙ্গিদের দায় জামায়াতে ইসলামীর ওপর চাপিয়ে মূলত জঙ্গিদেরকেই আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র প্রমাণ করে এদেশে বিদেশী সেনা আনতে চায়। দেশের জনগণ এ দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র করতে দিবে না।
সংবিধান সংশোধনে গঠিত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ‘৭২-এর সংবিধান দেশের ৪০ হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মী হত্যা ঠেকাতে পারেনি, রক্ষী বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন বন্ধ করতে পারেনি, ‘৭২-এর সংবিধান দেশের মানুষকে শান্তি দিতে পারেনি। বরং ‘৭২-এর সংবিধান দেশকে একদলীয় বাকশালী শাসনের দিকে নিয়ে গেছে। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আবার কী সেই একদলীয় বাকশাল কায়েম করতে চান? জনগণের রক্ত মাংস থাকতে তা বাস্তবায়ন হতে দিবে না। তিনি বলেন, কমিটিটি সর্বদলীয় কমিটি নয়। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলকে এতে রাখা হয়নি। একপেশে কমিটি জনগণের কথা বলতে পারে না। এতে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হতে পারে না।
তিনি দেশের পরিস্থিতিতে পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, দেশ ভালো থাকলে সবাই ভালো থাকবে। দেশ ভালো না থাকলে কেউ ভালো থাকবে না। তিনি বলেন, দেশ অনিশ্চিত যাত্রা করেছে। অভিভাবকহীন দেশকে রক্ষার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি সবাইকে দেশ, স্বাধীনতা, মানুষকে রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীন দেশের অস্তিত্ব নিয়ে দেশবাসী আজ শংকিত। এখন যারা ক্ষমতায় আছে, স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের অবদান আছে। তাদের কাছ থেকে জনগণ দায়িত্বশীল আচরণ আশা করেছিল। কিন্তু তারা ক্ষমতায় এসে বিরোধী দলের ওপর দমন নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব জনগণের জানমাল ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান সরকার তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা জনগণের অধিকার ও দেশের সমস্যা সমাধানের ভূমিকা রাখার পরিবর্তে বিরোধী দলকে দলনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। জাতীয় নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে একের পর এক রিমান্ডে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছে। মূলত জনগণের কন্ঠরোধ করার জন্যই তারা দমন নিপীড়ন চালাচ্ছে। তিনি বলেন, সংবিধানের ৪র্থ সংশোধনী করার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থপতি মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও টিকে থাকতে পারেননি।
চট্টগ্রাম: জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরী নায়েবে আমীর আফসার উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, সরকার দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে ব্যর্থ হয়ে দেশে চরম বিশৃক্মখলা ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, নিরীহ মুসলমান ও রোজাদারকে কষ্ট দেয়ার জন্যে রমযানে ব্যবহৃত নিত্যপণ্যের দাম এক মাস পূর্বেই বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারি দলের নেতাকর্মী ও ক্যাডাররাই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করেছে। জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে। অবিলম্বে জামায়াতের ৫ শীর্ষ নেতাসহ গ্রেফতারকৃত সারাদেশে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান। দায়েরকৃত মিথ্যা, সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন। নগর জামায়াতের মজলিসে শূরার সদস্য ও বিশিষ্ট শিল্পপতি এডভোকেট নাছির উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব সৈয়দ নূর, মাওলানা আবুল কালাম, সরওয়ার কামাল, শফি সিকদার, সরওয়ার জাহান সিরাজী, মোহাম্মদ আলী, মুহাম্মদ ফরিদুল আলম প্রমুখ।
রাজশাহী: জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানা এক শিক্ষক সমাবেশের আয়োজন করে। উক্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন থানা আমীর সিরাজুল ইসলাম এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহানগরীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল মালেক। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েম করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। সরকার দেশে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর চরম জুলুম ও নির্যাতন শুরু করেছে। বক্তাগণ সরকারকে এ দমন-পীড়ন নীতি ত্যাগ করে দেশের জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করার এবং শিক্ষক সমাজকে দেশের জনগণকে সচেতন করার আহবান জানান। তিনি আরও বলেন, শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ সারাদেশে গ্রেফতারকৃত সকল জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
নীলফামারী : জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী সদর উপজেলার উদ্যোগে গণসংযোগ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টায় স্থানীয় আল হেলাল একাডেমী চত্বরে পেশাজীবীদের নিয়ে আলোচনা সভা করা হয়। নীলফামারী সদর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মো. আবু হেলালের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ আজিজুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি আব্দুর রশিদসহ জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সভায় আমীরে জামায়াতসহ সকল নেতাকর্মীর মুক্তি এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষা ও ইসলামী রাজনীতি রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান হয়। আলোচনা সভায় সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিপুল সংখ্যক ঈমাম, শিক্ষক ও ডাক্তার অংশগ্রহণ করেন।
মাগুরা: গতকাল শুক্রবার জামায়াতে ইসলামী মাগুরা শহর শাখার উদ্যোগে স্থানীয় দরি মাগুরা আল আমীন কমপ্লেক্স মিলনায়তনে শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শহর আমীর রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আমীর আ. মতিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা লিয়াকত আলী খান। অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক সাঈদ আহমদ বাচ্চু, অধ্যাপক এম বি বাকের, অধ্যাপক আলমগীর বিশ্বাস, অধ্যাপক আশরাফ হুসাইন, মাসুদুর রহমান মাসুদ প্রমুখ।
একইদিন জেলার ৩৬টি ইউনিয়নের ৭৪টি স্পটে শিক্ষক, ওলামা, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের সাথে মতবিনিময় সমাবেশ হয়েছে। ওলামা সমাবেশ ৮, শিক্ষক সমাবেশ ১৩, শ্রমিক ৭, সাধারণ সমাবেশ ৪৯টি।
মহম্মদপুর, শালিখা, শ্রীপুর, মাগুরা থানা আমীরদের নেতৃত্বে এ সমাবেশে সহস্রাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
শাহরাস্তি (চাঁদপুর) সংবাদদাতা : শাহরাস্তিতে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ জামায়াত-শিবির ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের মুক্তি কামনায় উপজেলার বিভিন্ন উপশাখায় আলেম-ওলামা, পেশাজীবী, ছাত্রসহ সকল স্তরের লোকদের সাথে গণসংযোগ করা হয়। গণসংযোগ করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাওলানা আবুল হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল ইসলাম বিএসসি, পৌর সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সভাপতি শেখ মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। উপজেলা জামায়াত আমীর জানান, সরকারের জুলুম, নির্যাতন ও ফ্যাসিবাদী কর্মকান্ডের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
চট্টগ্রাম : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক আহছানুল্লাহ বলেছেন, সংবিধানের ৫ম সংশোধনী বাতিলের নামে আওয়ামী লীগ ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে চায়। তিনি বলেন, ইসলামী রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত এদেশের ১৫ কোটি মানুষ মেনে নেবে না। আওয়ামী লীগ এদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বানাতে চাচ্ছে। ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হলেও সেখানে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল আছে। সে দেশে ইসলামের নামেও মুসলমানদের নামে দল আছে। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের পর এখন অনেক পরিবর্তন এসেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবার খুন, ধর্ষণ, গুপ্তহত্যা, লাশ গুম, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে দলীয় ক্যাডারদের নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। আওয়ামী লীগ-যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বর্বর হামলা, অত্যাচার, নির্যাতন-জুলুম-দমন-পীড়ন ৭২-৭৫ সালের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে। দেশে কোন নতুন কল-কারখানা স্থাপন হচ্ছে না। বিনিয়োগ আসছে না, গার্মেন্টস ও কল-কারখানা বন্ধ, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের মানুষ আজ নিরাপদ নয়। তিনি সরকারের দেশের স্বার্থ বিরোধী চুক্তি ও কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশব্যাপী বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশাজীবীদের গণসংযোগের অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে প্রকৌশলীদের নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা ও মতবিনিময় সভাকালে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।
নগর জামায়াতের মজলিশে শূরার সদস্য সাহাব উদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নগর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী এ.কে.এম. মঞ্জু, প্রকৌশলী মাহাবুব আল হাসান, প্রকৌশলী মঈনুদ্দীন, প্রকৌশলী মাসুদ, আব্দুল্লাহ প্রমুখ।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক আহছানুল্লাহ বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে তথাকথিত যুদ্ধাপরাধ ইস্যু সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ময়দান গরম করছে। জনগণ সঠিক সময়ে তার জবাব দেবে ইনশাআল্লাহ।
সিলেট: গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিলেট সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার এবং অযৌক্তিকভাবে রিমান্ডে নিয়ে জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের লক্ষ্যে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্থানীয় কান্দিগাঁও ইউনিয়নে ব্যবসায়ী, শিক্ষানুরাগী ও এলাকার বিশিষ্ট মুরববীদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা এ সময় বলেন, বর্তমান সরকার আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে। দেশের সম্মানিত ব্যক্তিদেরকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করছে। অপরদিকে তাদের দলীয় বাহিনীর সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে না। প্রতিদিন অহরহ খুন, রাহাজানি, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত হলেও এসব অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃক্মখলা বাহিনীকে নিয়োজিত না করে সমাজের ভাল মানুষ ও নিরীহ ব্যক্তিদেরকে হয়রানী করায় তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকার তাদের ব্যর্থতা ঢাকতেই কথিত মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার ও ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে। বক্তারা সরকারকে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, ৯০ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত এই মুসলিম রাষ্ট্রে ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করার চিন্তা আত্মঘাতের শামিল।
ইউনিয়ন আমীর হাজী মোবারক আলীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আব্দুল লতিফ লালার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা (উত্তর) শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এবং সদর উপজেলা আমীর মাওলানা ইসলাম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সেক্রেটারি আবু দানিয়াল ও সহ সেক্রেটারি মুমিনুজ্জামান।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল মনাফ, বিশিষ্ট শিক্ষক মাওলানা মুজিবুর রহমান, আজাদ আহমদ চৌধুরী, ব্যবসায়ী জঈনুদ্দিন, আব্দুস সামাদ, জসিম উদ্দিন, আববাস উদ্দিন, আবুল কাশেম, আব্দুস শহীদ প্রমুখ।
জামায়াতের ইসলামী ডেমরা থানার উদ্যোগে ব্যাপক গণসংযোগের অংশ হিসেবে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। থানা আমীর মুহাম্মদ হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বলেন, সরকার একদিকে মিথ্যা ভিত্তিহীন মামলায় শীর্ষ রাজনীতিবিদদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে, অপরদিকে ছাত্রলীগ যুবলীগকে অবাধ সন্ত্রাস করার সুযোগ দিচ্ছে।

No comments: