স্বাধীনতার যুদ্ধের কারন, সেই সময়ের বিভিন্ন জানা অজানা ইতিহাস নিয়ে লেখার ইচ্ছা অনেক আগে থেকে এই কথা আপনাদের আগেই বলেছি। এই উদ্দ্যশ্যে আমার কর্ম ততপরতাও আপনাদের জানিয়েছি গত লেখায়। কিন্তু প্রতিকুল পরিবেশ হওয়ার কারনে আমার কাজ অনেকটাই থেমে গেছে। সব খানেই সবাই কেমন যেন সত্য কথা বলতে ভয় পাচ্ছে। কিছুদিন হল আলীগ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের তোড়জোড় শুরু করেছে। এটাকে যুদ্ধাপরাধী না বলে বলা হয়েছে মানবতা বিরোধী বিচার। যেই বিচারিক কর্মকান্ডের আওতায় শুধু জামায়াত ইসলামী আর আলীগ বিদ্বেশীরা আসবে। যদিও জানি আমার এই লেখা বাঙলাদেশের কোন কিছুরই কোন পরিবর্তন আনবে না। তারপরও লেখা দরকার। কারন মানুষকে জানতে হবে কি ঘটেছিল ৭১ এ।
শেখ মুজিবের ব্যাপক জনপ্রিয়তার অন্যতম কারন ছিল তিনি সব মানুষের কথা বলেছিলেন স্বাধীনতার পুর্বে। যার কারনে ছোট থেকে বড়, হিন্দু থেকে মুসলিম, বাংগালী থেকে বিহারী, গরিব থেকে ধনী, সকলেই তার আহ্বানে এগিয়ে এসেছিল। বিহারীদের একটা অঙশের সাথে বরাবরই বাঙগালীদের একটা বিরোধ ছিল। দুই পক্ষের মধ্যেই ছিল চাপা ক্ষোভ যা কিনা বের হয়ে আসছিল না পরিবেশের অভাবে। এইটা জানতেন শেখ মুজিব। এই ব্যপারে দিক নির্দেশনাও তার ছিল। কি বলেছিলেন তিনি সেদিন??
২ রা মার্চ ৭১, শেখ মুজিবের ভাষনের অঙশ বিশেষ
““ জনসাধারনকে সব সময় উষ্কানী দাতাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে ভাষা ও জন্ম স্থান নির্বিশেষে বাঙলাদেশে বসবাসকারী সকলেই আমাদের লোক। তাদের জান মাল ও সম্পদ সকলই আমাদের কাছে আমানত। এবং এগুলো অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।একই কখার পুনরাবৃত্তি করে শেখ মুজিব বলেন আপনারা গুন্ডা আর লুটেরাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ান। ””
শেখ মুজিব বাঙলাদেশের সকল মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিলেও তিনি ব্যাথৃ হয়েছিলেন তার দলের লোকদের নিয়ন্ত্রনে। তারই প্রতিফলন ঘটে কিছুদিন পরেই। স্বাধিনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরই শুরু হয় আওয়ামী গুনডাদের তান্ডব লীলা।যেখানেই তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলেছে সেখানেই চলেছে ভয়াবহ হত্যাযগ্গ যা কিনা হিটলারের নৃশঙসতাকেও লজ্জায় ফেলে দেয়।
++ বগুড়া জেলার শান্তাহারে ১৫ হাজারের বেশি লোককে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। মহিলাদের উলংগ করে রাস্তায় ঘুরানো হয় ।
++ চট্রগ্রামে ১০ হাজারের বেশি লোককে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে ছোট একটি এলাকাতেই আড়াইশো মহিলা ও শিশুকে বেয়নেট দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
++ সিরাজগন্জে সাড়ে তিনশত মহিলা ও শিশুকে একটি হলে তালাবদ্ধ করে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। ফলে তারা সবাই জীবন্ত পুড়ে মারা যায়।
++ ময়মানসিঙহের সানকিপাড়া এলাকায় দুহাজার পরিবারের একটি কলোনিকে সম্পুর্ন নিশ্চহ্ন করা হয়। পুরুষদের ঘর থেকে বের করে গুলি করে মারা হয় আর মহিলাদের গন ধর্ষন করা হয়। এরপর তাদের দিয়ে তাদের পুরুষদের কবর খোড়ানো হয়। অবশেষে মহিলাদেরও হত্যা করা হয়।
++ ১৯৭১ সালের ৩ ও ৪ মার্চে আওয়ামীলীগের বিক্ষুব্ধ সন্ত্রাসীরা চট্টগ্রামের ওয়ারলেস কলোনিতে আক্রমন করে ব্যাপক লুটতরাজ করেছিল। সেখানে তারা মহিলাদের ধর্ষন আর ও পুরুষদের হত্য করে। পরে সেখানে শেখ মুজিব পরিদর্শনে যেয়ে জনগনের কাছে এইসব সন্ত্রাষিদের দমনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অনুরোধ করেন।
++ ফিরোজ শাহ কলোনীতে ৭০০ ঘর লোক পুড়িয়ে মারা হয়।
উপরোক্ত তথ্য EAST PAKISTAN DOCUMENTATION SERIES : বাঙলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ, ৭ম খন্ড থেকে নেয়া। পৃ: ৩১৯, ৩২১, ৩২২
++ নয়া দিল্লির স্টেটসম্যান পত্রিকা ৪ঠা এপ্রিলে বলে :
“পাকিস্তানের পুর্বান্চলের আটকা পড়া অবাংগালী মুসলমান সব সময় উত্তেজনার শিকার হয়েছে। ”
“ ৬ই এপ্রিল লন্ডনের দি টাইমস পত্রিকায় খবর ছিল দেশ বিভাগের সময় হাজার হাজার অসহায় মুসলিম অবাংগালী ক্ষুব্ধ বাংগালীদের হত্যা যগ্গের স্বীকার হয়। ”
“ ২৮ শে এপ্রিল নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর হল ৩৫ হাজার বাংগালী আর কয়েক হাজার পাঠান ও অন্যান্য অবাঙগালী পুর্ব পাকিস্তানে নৃশংস ভাবে নিহত হয়।”
টরেন্টো ডেইলি স্টারে তথ্যমতে সরকারী হিসাবে সাম্প্রদায়িক সঙঘাতে পূর্ব পাকিস্তানে মে মাসের ৮ তারিখের পুর্ব পর্যন্ত ৩০ হাজার অবাংগালী নিহত হয়েছে।
এই হল আওয়ামীলীগের নৃশংশতার ক্ষুদ্র একটা চিত্র। এটা যদি মানবতা লংঘনের মধ্যে না পড়ে তাহলে আমার মনে হয় মানবতা বলতে কিছু নাই। আমার ফুফা একজন মুক্তিযুদ্ধা তাকে বলেছিলাম যে ফুফা, এগুলো কি সত্য?
ফুফা বলেন বাবা যুদ্ধের সময় এরকম অনেক কিছুই ঘটে। হয় তাই হবে। তাইতো একাত্তরে আওয়ামীলিগের লোকেরা কিছু করলে সেটা হয় মুক্তিযুদ্ধ। আর অন্য কেই কিছু করলে সেটা হয় যুদ্ধাপরাধ।
এরপরের পর্বে থাকভে আওয়ামীলিগের লোকেরা কিভাবে বিভিন্নকায়দায় নৃশংসভাবে মানুষ খুন করে তারই কিছু ইতিহ্স।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment