Saturday, July 24, 2010

দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সাথে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ

গ্রেফতারের ২৫ দিন পর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সাথে গতকাল শুক্রবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাক্ষাৎ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। গতকাল দুপুরে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন তার স্ত্রী বেগম তামান্না-ই-জাহান, দুই ছেলে, একমাত্র মেয়ে ও মেয়ের জামাতা। এ সময় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
গত ২৯ জুন গ্রেফতারের পর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সাথে তার পরিবারের এটাই প্রথম সাক্ষাৎ।

জনকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ: জামায়াত নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে — তাসনীম আলম

দৈনিক জনকণ্ঠে ‘পুলিশ হত্যায় জামায়াত-সর্বহারা যোগসূত্র খুঁজছে পুলিশ’ শিরোনামে গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত রিপোর্টে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মিথ্যা প্রচারণা চালানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক মোঃ তাসনীম আলম গতকাল বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, দৈনিক জনকণ্ঠের এ রিপোর্টে ‘জামায়াতের যুদ্ধাপরাধীরা দেশে আইন-শৃক্মখলা পরিস্থিতির অবনতি করে নৈরাজ্য ও বিশৃক্মখলা সৃষ্টির জন্য চরমপন্থী সর্বহারা দলের সদস্যদের মাঠে নামিয়েছে।’ মর্মে যে কথা লেখা হয়েছে তা সর্বৈব মিথ্যা। জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। কাজেই নৈরাজ্য ও বিশৃক্মখলা সৃষ্টির জন্য সর্বহারাদের মাঠে নামানোর প্রশ্নই আসে না। এই রিপোর্টে গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ‘জামায়াতের সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরয়ারের নেতৃত্বে চরমপন্থী সর্বহারারা সংগঠিত হচ্ছে’ মর্মে যে কথা লেখা হয়েছে তার মধ্যে সত্যের লেশমাত্রও নেই। জনকণ্ঠের গোটা রিপোর্টটিই সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারের নিজস্ব কারখানায় তৈরি আষাঢ়ে গল্প ছাড়া আর কিছুই না। জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে এ ধরনের ভিত্তিহীন মিথ্যা কাল্পনিক রিপোর্ট প্রচার করা থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান।

সিলেটে জেলা আমীর সম্মেলন: সরকারের দুঃশাসন ও নির্যাতন থেকে দেশের জনগণ মুক্তি চায় -জামায়াত

জামায়াতে ইসলামী সিলেট বিভাগের জেলা আমীর সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আওয়ামী নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ১৯ মাসে দেশ শাসনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনের পূর্বে তারা অঙ্গীকার করেছিল-জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সমস্যার সমাধান, আইন-শৃক্মখলার উন্নতি, প্রশাসনকে দলীয়করণ মুক্ত, দ্রব্যমূল্য কমিয়ে আনতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়া, দশ টাকা মূল্যে চাল, বিনামূল্যে সার ও ঘরে ঘরে চাকুরী দিবে। বিগত দিনের দেশ শাসনে উল্লেখিত অঙ্গীকারপূরণে তারা শতভাগ ব্যর্থ হয়েছে। বক্তারা বলেন, বিরোধী দল যখন জনগণের মৌলিক এ দাবী পূরণের জন্য আন্দোলনে নেমেছে। সরকার তাদের ব্যর্থতাকে ঢাকার জন্য বিরোধী দলের উপর দমন-পীড়ন ও গ্রেফতার নির্যাতন শুরু করেছে। জামায়াত দেশের স্বার্থে টিপাইমুখ বাঁধ ও ভারতকে সমুদ্র বন্দর দেয়ার প্রতিবাদ করেছে। ইসলামী শিক্ষা ও ইসলামী তাহজিব-তামাদ্দুন রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকা রেখেছে। একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা ও ‘৭২ এর সংবিধানে ফিরার নামে ইসলামকে উৎখাত করার চক্রান্ত প্রতিরোধে আন্দোলন করছে। তাই আজ জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হচ্ছে। জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে একজন নাগরিকের স্বাভাবিক মৃত্যুর কোন নিশ্চয়তা নেই। খুন, অপহরণ, গুম, হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের ন্যায় এরূপ মানবতা বিরোধী সকল অপকর্ম সরকার দলীয় নেতা-কর্মীদের দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হ্যাইজাক, ডাকাতি মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আইন-শৃক্মখলা বাহিনীর এদিকে কোন নজর নেই। তাদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বাধা দানে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দমন-পীড়ন ও গ্রেফতার নির্যাতনে। সরকারের দুঃশাসন ও নির্যাতন থেকে দেশের জনগণ মুক্তি চায়। নেতৃবৃন্দ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের অবিলম্বে মুক্তি দাবী করেন। তারা দলের সকল নেতা-কর্মীকে ধৈর্যের ও সাহসিকতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহবান জানান। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বশীল অধ্যাপক ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি মাওলানা ফরিদ উদ্দীন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মহানগরী নায়েবে আমীর ডা. সায়েফ আহমদ, সিলেট জেলা উত্তরের আমীর হাফিজ আনোয়ার হোসাইন খান, সুনামগঞ্জ জেলা আমীর হাতিমুর রহমান, হবিগঞ্জ জেলা আমীর মাওলানা মখলিছুর রহমান, অঞ্চল টিম সদস্য আজিজুর রশিদ চৌধুরী, সিলেট দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান প্রমুখ।

সরকার সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতেই বিরোধী দলের উপর দমন পীড়ন চালাচ্ছে -হামিদুর রহমান আযাদ

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী সেক্রেটারি এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এমপি বলেছেন, সরকার ‘৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাবার নামে সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ, আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস, রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম তথা ইসলামী রাজনীতিকে উঠিয়ে দিতে চায়। কিন্তু ৯০ শতাংশ মুসলমানের এ দেশে ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করা যাবে না। সরকার নিজেদের সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতেই বিরোধী দলের উপর দমন পীড়ন চালাচ্ছে। সরকারের অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে কোন ষড়যন্ত্র করে দমানো যাবে না।
গতকাল শুক্রবার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী মিরপুর-মোহাম্মদপুর-লালবাগ অঞ্চলের যৌথ উদ্যোগে থানা দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুলের পরিচালনায় সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল হালিম, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ডাঃ রিদওয়ান উল্লাহ শাহিদী, এ এস এম রইস উদ্দীন, রফিকুন্নবী ও মোবারক হোসেন সহ সংশ্লিষ্ট থানার আমীর ও সেক্রেটারিবৃন্দ।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, সরকার আইনের তোয়াক্কা না করে অন্যায়ভাবে জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে, গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে মানবাধিকার লংঘন করে চলছে। আওয়ামী লীগ জন্ম থেকেই একটি ফ্যাসিবাদী দল। সরকার জামায়াতের শীর্ষ নেতাসহ বিরোধী দলের কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলায় আটক রেখেছে। তিনি অবিলম্বে মাওলানা নিজামীসহ সকল বন্দির নিঃশর্ত মুক্তি প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
তিনি আরো বলেন, সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য যে কমিটি করেছে তা সর্বদলীয় কমিটি বলা হলেও আসলে এটা দলীয় কমিটি। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টির এক অংশকে কমিটিতে রাখা হয়নি। দলীয় সিদ্ধান্ত জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার মাধ্যমে চিরদিন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখছে আওয়ামী লীগ। এ দেশের দেশপ্রেমিক জনগণ সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে দেবে না। তিনি সরকারের দেশ বিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান।

ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর জেলা নেতৃবৃন্দের সাথে অধ্যাপক মুজিব: জামায়াত নেতাদের ওপর জুলুম বন্ধ করে নির্বাচনী ওয়াদামত মানুষকে চাকরি দিন

ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর জেলা ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দের সাথে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটরি জেনারেল এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান মতবিনিময় সভায় বলেন, সরকারকে জামায়াত নেতাদের ওপর জুলুম নির্যাতন বন্ধ করে নির্বাচনী ওয়াদামত শ্রমজীবি মানুষকে চাকরি দেয়ার ওয়াদা পালন করতে হবে। দেশ আজ গভীর সংকটে নিমজ্জিত সর্বত্র হাহাকার, ভয়-ভীতি, গ্রেফতার আতংক, গুপ্ত হত্যা, মামলা-হামলা, পুলিশী হেফাজতে আসামীর মৃত্যু, সরকারি দলের লোকদের টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি, জমি দখল ইত্যাদি নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ বাহিনীকে সরকার দলীয় বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছে। মিল-কারখানা বন্ধ করে দেয়ায় শ্রমজীবী মানুষ চাকরি হারাচ্ছে এবং বেকারত্বের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে। বিদ্যুৎ-গ্যাস পানি সমস্যায় মানুষ দিশেহারা। সরকার এসব সমস্যা সমাধানে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকে আড়াল করতে মিথ্যা অজুহাতে জামায়াতে ইসলামীর মত একটি আদর্শবাদী দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার ও রিমান্ডে দিয়েছে। তিনি সরকারকে জুলুম নির্যাতনের পথ পরিহার করে জামায়াত-শিবির ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আটককৃত নেতা-কর্মীদের অনতিবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দানের দাবি জানান।
রাজধানীর মগবাজারস্থ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল জুমাবার অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা ঢাকা বিভাগ দক্ষিণের সভাপতি মুহাম্মদ উল্লাহর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এডভোকেট এস এম আবদুল হাই প্রমুখ

প্রকৌশলীদের সাথে মতবিনিময়কালে এটিএম আজহার: দেশ ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে

জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, দেশ আজ ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এভাবে অগ্রসর হতে থাকলে দেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারছে না। এ ধরনের পরিস্থিতি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। সংবিধান সংশোধনে গঠিত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ‘৭২-এর সংবিধান দেশের ৪০ হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মী হত্যা ঠেকাতে পারেনি, রক্ষী বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন বন্ধ করতে পারেনি, ‘৭২-এর সংবিধান দেশের মানুষকে শান্তি দিতে পারেনি। বরং ‘৭২-এর সংবিধান দেশকে একদলীয় বাকশালী শাসনের দিকে নিয়ে গেছে। আবারো দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েম করতে চাইলে জনগণ তা বাস্তবায়ন হতে দিবে না। সংবিধান সংশোধনে গঠিত একপেশে কমিটিতে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হতে পারে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি দেশের পরিস্থিতিতে পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, দেশ অনিশ্চিত যাত্রা করেছে। অভিভাবকহীন দেশকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। তিনি সবাইকে দেশ, স্বাধীনতা, মানুষকে রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।
গতকাল শুক্রবার মগবাজারস্থ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে ফ্যাসিস্ট ও ব্যর্থ সরকারের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রকৌশলীদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান। বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুল ও মাওলানা আবদুল হালিম। প্রকৌশলীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী শেখ আল আমিন, প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইসহাক, স্কোয়ার্ডন লিডার (অব:) খাজা মইন উদ্দিন, আবদুল জলিল, আবদুস সামাদ মারুফ, আজিজুর রহমান।
এটিএম আজহার বলেন, গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই। আইন শৃংখলা পরিস্থিতিও সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। যেই পুলিশ দিয়ে সরকার জনগণের নিরাপত্তা দিবে, তাদেরই সরকার নিরাপত্তা দিতে পারছে না। ৩ পুলিশকে এক সাথে প্রাণ দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, দেশ আজ ভয়াবহ অবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এভাবে অগ্রসর হতে থাকলে দেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, যা কেউ কল্পনাও করতে পারছে না। এ ধরনের পরিস্থিতি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়।
ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ২০০৮ সালের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সরকারের ১৮ মাসে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আন্দোলনের কোন কর্মসূচি দেয়া হয়নি। তারপরও তারা স্বাচ্ছন্দে দেশ চালাতে পারেনি। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। ১৮ মাসে শত শত লোক খুন হয়েছে। আওয়ামী লীগ-আওয়ামী লীগ, যুবলীগ-ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগ-ছাত্রলীগের মধ্যে মারামারিতে খুন হয়েছে অনেকে। নিজেদের মধ্যে মারামারি হলে সেখানে জামায়াত ও শিবির খোঁজা হয়। মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যও বিপরীতমুখী কথা বলেন। সমন্বয়হীনতা দেখলেই জামায়াত ও শিবির খোঁজা হলে, তাহলে তো মন্ত্রিসভায় এরকম কেউ আছে কিনা তা বের করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, এভাবে সবখানে জামায়াত ও শিবির খোঁজার মধ্য দিয়ে সরকারের দেউলিয়াত্ব ও দেশ পরিচালনায় ব্যর্থতার চিত্র ফুটে ওঠে।
এটিএম আজহার সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে বলেন, সব জায়গায় নিজেদের লোক বসালেই দেশ চালানো যায় না। যোগ্যতার প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আসলে বিরোধী দলের ভূমিকায় যতটা পারঙ্গম, সরকার পরিচালনায় তারা ততটাই ব্যর্থ। দেশ পরিচালনায় তারা কখনই সততা, ন্যায়-নিষ্ঠতা-দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দিতে পারেনি। ‘৭২-’৭৫, ১৯৯৬-২০০১ ও বর্তমানের ১৮ মাসের শাসনমালই তার প্রমাণ। তিনি আরো বলেন, এখন নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই ৪০ বছর আগের যুদ্ধাপরাধ ইস্যু সামনে নিয়ে এসেছে। তারা প্রথমে বলেছিল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে। আইনমন্ত্রী আমেরিকা থেকে সফর করে এসে বললেন, মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার করবেন। তিনি বলেন, মানবতা বিরোধী অপরাধ শুধু কি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে হয়েছে? এখন হচ্ছে না? জাতীয় নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে একের পর এক মামলা দিয়ে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে, এটা মানবতা বিরোধী অপরাধ নয়? ওয়ার্ড কাউন্সিলর চৌধুরী আলম, শিবিরের গোলাম মোর্তুজাসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে গুম করে ফেলা হচ্ছে। এটা চরম মানবতা বিরোধী অপরাধ নয়? তিনি বলেন, এভাবে অত্যাচার নির্যাতন, গ্রেফতার করে দেশ চালাতে পারবেন এটা মনে করলে ভুল করবেন। ভুলে গেলে চলবে না, মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য আপনাদেরও একদিন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, যুদ্ধাপরাধীরা কখনই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারে না। তারা আবার সেই দেশে মন্ত্রী হতে পারে না। জনগণের সামনে ঘুরে বেড়াতে পারে না। যারা যুদ্ধাপরাধী তারা হয় কারাগারে থাকে, না হয় পালিয়ে থাকে। তিনি বলেন, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ জামায়াত নেতৃবৃন্দ পালিয়েও ছিলেন না আবার কারাগারেও ছিলেন না। তারা জনগণের ভোটে বার বার নির্বাচিত হয়েছেন, মন্ত্রীও হয়েছেন। তারা জনগণের সাথেই ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, পৃথিবীর যেখানেই যুদ্ধাপরাধীদের কথা শুনা যায়, তাদের কেউ কারাগারে ছিলেন অথবা পালিয়ে ছিলেন। সেখান থেকেই তাদের বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে। তিনি বলেন, যাদের সাথে এই অপরাধের কোন সম্পৃক্ততা নেই, তাদেরই বিচারের নামে হয়রানি করা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় মানবতা বিরোধী অপরাধ। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, অতীতে ফেরাউন নমরূদ দুর্দান্ত প্রতাপের সাথে দেশ শাসন করেছিল। কিন্তু তাদেরও পতন হয়েছে। অতএব সংযত হোন, আল্লাহকে ভয় করুন, জনগণকে ভয় করুন। তিনি উল্লেখ করেন, জালিমের হাত যত প্রসারিত হবে, আল্লাহর সাহায্য তত নিকটে আসবে। তিনি অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন।
এটিএম আজহার বলেন, ইসলাম মানবতার ধর্ম, শান্তির ধর্ম। ইসলামের সাথে জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসের কোন সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সাথে কখনই কোন জঙ্গি সংগঠনের কোন সম্পর্ক ছিল না। বরং আওয়ামী লীগের শাসনামলেই জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে। তিনি বলেন, জঙ্গিদের দায় জামায়াতে ইসলামীর ওপর চাপিয়ে মূলত জঙ্গিদেরকেই আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র প্রমাণ করে এদেশে বিদেশী সেনা আনতে চায়। দেশের জনগণ এ দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র করতে দিবে না।
সংবিধান সংশোধনে গঠিত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ‘৭২-এর সংবিধান দেশের ৪০ হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মী হত্যা ঠেকাতে পারেনি, রক্ষী বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন বন্ধ করতে পারেনি, ‘৭২-এর সংবিধান দেশের মানুষকে শান্তি দিতে পারেনি। বরং ‘৭২-এর সংবিধান দেশকে একদলীয় বাকশালী শাসনের দিকে নিয়ে গেছে। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আবার কী সেই একদলীয় বাকশাল কায়েম করতে চান? জনগণের রক্ত মাংস থাকতে তা বাস্তবায়ন হতে দিবে না। তিনি বলেন, কমিটিটি সর্বদলীয় কমিটি নয়। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলকে এতে রাখা হয়নি। একপেশে কমিটি জনগণের কথা বলতে পারে না। এতে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হতে পারে না।
তিনি দেশের পরিস্থিতিতে পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, দেশ ভালো থাকলে সবাই ভালো থাকবে। দেশ ভালো না থাকলে কেউ ভালো থাকবে না। তিনি বলেন, দেশ অনিশ্চিত যাত্রা করেছে। অভিভাবকহীন দেশকে রক্ষার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি সবাইকে দেশ, স্বাধীনতা, মানুষকে রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীন দেশের অস্তিত্ব নিয়ে দেশবাসী আজ শংকিত। এখন যারা ক্ষমতায় আছে, স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের অবদান আছে। তাদের কাছ থেকে জনগণ দায়িত্বশীল আচরণ আশা করেছিল। কিন্তু তারা ক্ষমতায় এসে বিরোধী দলের ওপর দমন নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব জনগণের জানমাল ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান সরকার তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা জনগণের অধিকার ও দেশের সমস্যা সমাধানের ভূমিকা রাখার পরিবর্তে বিরোধী দলকে দলনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। জাতীয় নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে একের পর এক রিমান্ডে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছে। মূলত জনগণের কন্ঠরোধ করার জন্যই তারা দমন নিপীড়ন চালাচ্ছে। তিনি বলেন, সংবিধানের ৪র্থ সংশোধনী করার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থপতি মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও টিকে থাকতে পারেননি।
চট্টগ্রাম: জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরী নায়েবে আমীর আফসার উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, সরকার দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে ব্যর্থ হয়ে দেশে চরম বিশৃক্মখলা ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, নিরীহ মুসলমান ও রোজাদারকে কষ্ট দেয়ার জন্যে রমযানে ব্যবহৃত নিত্যপণ্যের দাম এক মাস পূর্বেই বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারি দলের নেতাকর্মী ও ক্যাডাররাই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করেছে। জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে। অবিলম্বে জামায়াতের ৫ শীর্ষ নেতাসহ গ্রেফতারকৃত সারাদেশে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান। দায়েরকৃত মিথ্যা, সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন। নগর জামায়াতের মজলিসে শূরার সদস্য ও বিশিষ্ট শিল্পপতি এডভোকেট নাছির উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব সৈয়দ নূর, মাওলানা আবুল কালাম, সরওয়ার কামাল, শফি সিকদার, সরওয়ার জাহান সিরাজী, মোহাম্মদ আলী, মুহাম্মদ ফরিদুল আলম প্রমুখ।
রাজশাহী: জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানা এক শিক্ষক সমাবেশের আয়োজন করে। উক্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন থানা আমীর সিরাজুল ইসলাম এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহানগরীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল মালেক। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েম করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। সরকার দেশে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর চরম জুলুম ও নির্যাতন শুরু করেছে। বক্তাগণ সরকারকে এ দমন-পীড়ন নীতি ত্যাগ করে দেশের জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করার এবং শিক্ষক সমাজকে দেশের জনগণকে সচেতন করার আহবান জানান। তিনি আরও বলেন, শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ সারাদেশে গ্রেফতারকৃত সকল জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
নীলফামারী : জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী সদর উপজেলার উদ্যোগে গণসংযোগ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টায় স্থানীয় আল হেলাল একাডেমী চত্বরে পেশাজীবীদের নিয়ে আলোচনা সভা করা হয়। নীলফামারী সদর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মো. আবু হেলালের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ আজিজুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি আব্দুর রশিদসহ জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সভায় আমীরে জামায়াতসহ সকল নেতাকর্মীর মুক্তি এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষা ও ইসলামী রাজনীতি রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান হয়। আলোচনা সভায় সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিপুল সংখ্যক ঈমাম, শিক্ষক ও ডাক্তার অংশগ্রহণ করেন।
মাগুরা: গতকাল শুক্রবার জামায়াতে ইসলামী মাগুরা শহর শাখার উদ্যোগে স্থানীয় দরি মাগুরা আল আমীন কমপ্লেক্স মিলনায়তনে শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শহর আমীর রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আমীর আ. মতিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা লিয়াকত আলী খান। অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক সাঈদ আহমদ বাচ্চু, অধ্যাপক এম বি বাকের, অধ্যাপক আলমগীর বিশ্বাস, অধ্যাপক আশরাফ হুসাইন, মাসুদুর রহমান মাসুদ প্রমুখ।
একইদিন জেলার ৩৬টি ইউনিয়নের ৭৪টি স্পটে শিক্ষক, ওলামা, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের সাথে মতবিনিময় সমাবেশ হয়েছে। ওলামা সমাবেশ ৮, শিক্ষক সমাবেশ ১৩, শ্রমিক ৭, সাধারণ সমাবেশ ৪৯টি।
মহম্মদপুর, শালিখা, শ্রীপুর, মাগুরা থানা আমীরদের নেতৃত্বে এ সমাবেশে সহস্রাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
শাহরাস্তি (চাঁদপুর) সংবাদদাতা : শাহরাস্তিতে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ জামায়াত-শিবির ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের মুক্তি কামনায় উপজেলার বিভিন্ন উপশাখায় আলেম-ওলামা, পেশাজীবী, ছাত্রসহ সকল স্তরের লোকদের সাথে গণসংযোগ করা হয়। গণসংযোগ করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাওলানা আবুল হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল ইসলাম বিএসসি, পৌর সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সভাপতি শেখ মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। উপজেলা জামায়াত আমীর জানান, সরকারের জুলুম, নির্যাতন ও ফ্যাসিবাদী কর্মকান্ডের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
চট্টগ্রাম : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক আহছানুল্লাহ বলেছেন, সংবিধানের ৫ম সংশোধনী বাতিলের নামে আওয়ামী লীগ ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে চায়। তিনি বলেন, ইসলামী রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত এদেশের ১৫ কোটি মানুষ মেনে নেবে না। আওয়ামী লীগ এদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বানাতে চাচ্ছে। ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হলেও সেখানে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল আছে। সে দেশে ইসলামের নামেও মুসলমানদের নামে দল আছে। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের পর এখন অনেক পরিবর্তন এসেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবার খুন, ধর্ষণ, গুপ্তহত্যা, লাশ গুম, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে দলীয় ক্যাডারদের নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। আওয়ামী লীগ-যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বর্বর হামলা, অত্যাচার, নির্যাতন-জুলুম-দমন-পীড়ন ৭২-৭৫ সালের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে। দেশে কোন নতুন কল-কারখানা স্থাপন হচ্ছে না। বিনিয়োগ আসছে না, গার্মেন্টস ও কল-কারখানা বন্ধ, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের মানুষ আজ নিরাপদ নয়। তিনি সরকারের দেশের স্বার্থ বিরোধী চুক্তি ও কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশব্যাপী বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশাজীবীদের গণসংযোগের অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে প্রকৌশলীদের নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা ও মতবিনিময় সভাকালে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।
নগর জামায়াতের মজলিশে শূরার সদস্য সাহাব উদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নগর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী এ.কে.এম. মঞ্জু, প্রকৌশলী মাহাবুব আল হাসান, প্রকৌশলী মঈনুদ্দীন, প্রকৌশলী মাসুদ, আব্দুল্লাহ প্রমুখ।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক আহছানুল্লাহ বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে তথাকথিত যুদ্ধাপরাধ ইস্যু সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ময়দান গরম করছে। জনগণ সঠিক সময়ে তার জবাব দেবে ইনশাআল্লাহ।
সিলেট: গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিলেট সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার এবং অযৌক্তিকভাবে রিমান্ডে নিয়ে জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের লক্ষ্যে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্থানীয় কান্দিগাঁও ইউনিয়নে ব্যবসায়ী, শিক্ষানুরাগী ও এলাকার বিশিষ্ট মুরববীদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা এ সময় বলেন, বর্তমান সরকার আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে। দেশের সম্মানিত ব্যক্তিদেরকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করছে। অপরদিকে তাদের দলীয় বাহিনীর সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে না। প্রতিদিন অহরহ খুন, রাহাজানি, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত হলেও এসব অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃক্মখলা বাহিনীকে নিয়োজিত না করে সমাজের ভাল মানুষ ও নিরীহ ব্যক্তিদেরকে হয়রানী করায় তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকার তাদের ব্যর্থতা ঢাকতেই কথিত মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার ও ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে। বক্তারা সরকারকে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, ৯০ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত এই মুসলিম রাষ্ট্রে ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করার চিন্তা আত্মঘাতের শামিল।
ইউনিয়ন আমীর হাজী মোবারক আলীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আব্দুল লতিফ লালার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা (উত্তর) শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এবং সদর উপজেলা আমীর মাওলানা ইসলাম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সেক্রেটারি আবু দানিয়াল ও সহ সেক্রেটারি মুমিনুজ্জামান।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল মনাফ, বিশিষ্ট শিক্ষক মাওলানা মুজিবুর রহমান, আজাদ আহমদ চৌধুরী, ব্যবসায়ী জঈনুদ্দিন, আব্দুস সামাদ, জসিম উদ্দিন, আববাস উদ্দিন, আবুল কাশেম, আব্দুস শহীদ প্রমুখ।
জামায়াতের ইসলামী ডেমরা থানার উদ্যোগে ব্যাপক গণসংযোগের অংশ হিসেবে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। থানা আমীর মুহাম্মদ হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বলেন, সরকার একদিকে মিথ্যা ভিত্তিহীন মামলায় শীর্ষ রাজনীতিবিদদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে, অপরদিকে ছাত্রলীগ যুবলীগকে অবাধ সন্ত্রাস করার সুযোগ দিচ্ছে।

দু’হাঁটু ফুলে গেছে\ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হচ্ছে অসুস্থ মাওলানা সাঈদী আবারো ২ দিনের রিমান্ডে

অসুস্থ বয়োবৃদ্ধ আলেম মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আবারো ২দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। বিশ্ব বরেণ্য কুরআনের তাফসীরকারক মাওলানা সাঈদী ডায়াবেটিসের রোগী। তার বুকে দু‘টি রিং বসানো। তার চলাফেরা ও বাথরুম সারানোর কাজসহ সকল কাজই করতে হতো সাহায্যকারীদের মাধ্যমে। পবিত্র কুরআনের তাফসীর শুনে মাওলানা সাঈদীর হাতে হাজারো অমুসলিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রিয় এ ব্যক্তিটির দু‘টো হাঁটুই ফুলে গেছে। ভেঙ্গে গেছে শরীর। রিমান্ডের নামে অমানবিক নির্যাতন চলছে তার ওপর। নোংরা পরিবেশে অস্বাস্থ্যকর কক্ষে তাকে রাখা হয়েছে। দিন রাত সবই সমান তার কাছে। সকালে সূর্যের আলোতে পবিত্র কুরআনের তাফসীর দেখার সুযোগ নেই তার। ফ্লোরে ঘুমিয়েই কাটাতে হচ্ছে রাতের পর রাত। নিয়মিত ঘুম নেই, নেই ভাল খাবার, অযু গোছল বা বাথরুম সারানোর জন্য আগের মতো সাহায্যকারী নেই। ফ্লোরে শুয়ে ছাদের দিকে দেখেন সিলিং ফ্যান নেই তার কক্ষে। আর মশা ও পোকা মাকড় যেন তার নিত্য সঙ্গী।
রমনা থানায় দায়ের করা ৮২ (২) ২০০৪ মামলায় ৩দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল শুক্রবার আদালতে হাজির করা হয় মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে। আবারো রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। তাও ৭ দিনের। বিচারক দিলারা আলো চন্দনা ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মাওলানা সাঈদীর পক্ষের আইনজীবীরা তার অসুস্থতার কথা তুলে ধরে জেল হাজতে পাঠানোর আবেদন করেন। কিন্তু তা নাকচ হয়ে যায়।
রাজধানীর কদমতলী থানায় সাজানো আরো এক মামলায় আসামী করা হয়েছে মাওলানা সাঈদীকে। এ মামলার শুনানীর জন্য ২৯ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করেছেন বিচারক তানিয়া।
মাওলানা সাঈদীর পক্ষে আদালতে শুনানীতে অংশ গ্রহণ করেন এডভোকেট মশিউল আলম, আব্দুর রাজ্জাক, এস এম সোহরাব আলী, আবু সাঈদ মোল্লা, লুৎফর রহমান, শামসুল ইসলাম, পারভেজ হোসেন, আব্দুল হান্নানসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কোন মামলায় ৩দিনের বেশী রিমান্ড না দেয়ার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে। মাওলানা সাঈদীকে ৩দিনের রিমান্ড নেয়ার পর আবার রিমান্ড না নিয়ে জেল হাজতে পাঠানোর আবেদন করেছি। রিমান্ডে থেকে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তার হাঁটু ফুলে গেছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাকে রাখা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অসুস্থ বয়োবৃদ্ধ আলেম মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আবারো ২দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। বিশ্ব বরেণ্য কুরআনের তাফসীরকারক মাওলানা সাঈদী ডায়াবেটিসের রোগী। তার বুকে দু‘টি রিং বসানো। তার চলাফেরা ও বাথরুম সারানোর কাজসহ সকল কাজই করতে হতো সাহায্যকারীদের মাধ্যমে। পবিত্র কুরআনের তাফসীর শুনে মাওলানা সাঈদীর হাতে হাজারো অমুসলিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রিয় এ ব্যক্তিটির দু‘টো হাঁটুই ফুলে গেছে। ভেঙ্গে গেছে শরীর। রিমান্ডের নামে অমানবিক নির্যাতন চলছে তার ওপর। নোংরা পরিবেশে অস্বাস্থ্যকর কক্ষে তাকে রাখা হয়েছে। দিন রাত সবই সমান তার কাছে। সকালে সূর্যের আলোতে পবিত্র কুরআনের তাফসীর দেখার সুযোগ নেই তার। ফ্লোরে ঘুমিয়েই কাটাতে হচ্ছে রাতের পর রাত। নিয়মিত ঘুম নেই, নেই ভাল খাবার, অযু গোছল বা বাথরুম সারানোর জন্য আগের মতো সাহায্যকারী নেই। ফ্লোরে শুয়ে ছাদের দিকে দেখেন সিলিং ফ্যান নেই তার কক্ষে। আর মশা ও পোকা মাকড় যেন তার নিত্য সঙ্গী।
রমনা থানায় দায়ের করা ৮২ (২) ২০০৪ মামলায় ৩দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল শুক্রবার আদালতে হাজির করা হয় মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে। আবারো রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। তাও ৭ দিনের। বিচারক দিলারা আলো চন্দনা ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মাওলানা সাঈদীর পক্ষের আইনজীবীরা তার অসুস্থতার কথা তুলে ধরে জেল হাজতে পাঠানোর আবেদন করেন। কিন্তু তা নাকচ হয়ে যায়।
রাজধানীর কদমতলী থানায় সাজানো আরো এক মামলায় আসামী করা হয়েছে মাওলানা সাঈদীকে। এ মামলার শুনানীর জন্য ২৯ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করেছেন বিচারক তানিয়া।
মাওলানা সাঈদীর পক্ষে আদালতে শুনানীতে অংশ গ্রহণ করেন এডভোকেট মশিউল আলম, আব্দুর রাজ্জাক, এস এম সোহরাব আলী, আবু সাঈদ মোল্লা, লুৎফর রহমান, শামসুল ইসলাম, পারভেজ হোসেন, আব্দুল হান্নানসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কোন মামলায় ৩দিনের বেশী রিমান্ড না দেয়ার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে। মাওলানা সাঈদীকে ৩দিনের রিমান্ড নেয়ার পর আবার রিমান্ড না নিয়ে জেল হাজতে পাঠানোর আবেদন করেছি। রিমান্ডে থেকে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তার হাঁটু ফুলে গেছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাকে রাখা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

Friday, July 23, 2010

কিছু পুরনো কৌতুক, মজা না লাগলে পয়সা ফেরত!!

১/চাচা-ও তার ভাগ্নে?
চাচা ছিলেন হুজুর। কিন্তু তার ভাগ্নেটা একদম নামাজ পড়ে না। চাচা ভাগ্নেকে অনেক বুঝালেন। কিছুতেই কাজ হলোনা। শেষমেষ চাচা ভাগ্নেকে বললেন।
: তুই এখন থেকে নামাজ পড়লে তোকে ৫ টাকা করে দেব।
ভাগ্নেতো কথা শুনে মহা খুশি। সে খুশিমনে নামাজ পড়তে গেল। নামাজ পড়ে এসে চাচাকে বললো,
: চাচা, নামাজ পড়ে এসেছি। এবার টাকা দাও।
: কিসের টাকা? তু্ই নামাজ পড়ছিস নেকী পাইছিস। তোকে আবার টাকা দেব কেন?
: চাচা, আমি জানতাম তুমি এইরকম করবা। আমিও কম যাইনা। আমি নামাজ ঠিক-ই পড়ছি। কিন্তু ওজু করি নাই।:-O =))

২/আমিও তো বাবা হতে চলেছি
কার্তিকদা খুব চিকন ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি খুব মোটা হয়ে যাচ্ছেন।
তাই দেখে একদিন কার্তিকদা’র বউ তাকে বললেন, “তুমি এতো মোটা হয়ে যাচ্ছো কেনগো???”
শুনে কার্তিকদা বললেন, “খালি আমি একা মোটা হচ্ছি? তুমিওতো মোটা হচ্ছো।
“ কার্তিকদার বউ এটা শুনে বললো, “আমিতো মা হতে চলেছি। তাই মোটা হচ্ছি।
“ কার্তিকদা মুচকি হেসে বললো, “আমিও তো বাবা হতে চলেছি, তাই না? :-O

৩/ স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কথোপকথন
স্ত্রীঃ ইস!!! আমি যদি পেপার হইতাম তবে সারাদিন তোমার হাতের উপর থাকতে পারতাম।
স্বামীঃ আমারও তাই ইচ্ছা করে যে তুমি যদি পেপার হতে তাহলে আমি প্রতিদিন তোমাকে চেঞ্জ করতে পারতাম।

৪/মাতালের মাতলামী
এক মাতাল একটি কবরের সামনে বসে মদ খাচ্ছিল। হঠাৎ সেখানে এক পুলিশ এসে হাজির।
পুলিশ (ধমক দিয়ে)ঃ এই ব্যাটা এখানে বসে কি করছিস?
মাতালঃ হুজুর আমার বাপের কবরের পাশে বসে একটু কান্নাকাটি করছি।
পুলিশ (রেগে গিয়ে)ঃ এটা তোর বাপের কবর, না? শালা এটাতো একটা বাচ্চার কবর।
মাতালঃ ওই তো হুজুর। আমার বাপতো বাচ্চা অবস্থাতেই মারা গিয়েছিল। :]

৫/ঘাস খেয়ে চলে গেছে স্যার
একদিন এক বিদ্যালয়ে শিক্ষক তার ছাত্র-ছাত্রীদের গরু আঁকতে দিলেন। সবাই গরু এঁকে খাতা জমা দিল। এক ছেলে জমা দিল একটা খালি কাগজ।
শিক্ষক কাগজটা দেখে বলল, "এটা কি এঁকেছিস?"
ছাত্র বলল, "স্যার, ঘাস এঁকেছিলাম।"
শিক্ষক বলল, "ঘাস কই?"
ছাত্র বলল, "স্যার, গরুতে খেয়ে ফেলেছে।"
শিক্ষক বলল, "তাহলে গরু কই?"
ছাত্র বলল, "স্যার, গরুতো ঘাস খেয়ে চলে গেছে। :[

৬/বিএনপি, আওয়ামী লীগ, আমলা ও বালক
উড়ন্ত প্লেনে সহসা পাইলটের ঘোষণা শোনা গেলো, �সম্মানিত যাত্রীগণ, প্লেনে আগুন ধরে গেছে, কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্লেনটি বিস্ফোরিত হবে। আপনারা দ্রুত প্যারাসুট দিয়ে নেমে পড়ুন।�
এই ঘোষণা দিয়েই পাইলট প্যারাসুট নিয়ে ঝাপ দিলেন।
প্লেনে তখন যাত্রী চার জন � একজন আমলা, দুইজন রাজনীতিক � একজন আওয়ামী লীগের নেতা, অপর জন বিএনপির নেতা এবং একটি স্কুল ছাত্র। কিন্তু, দেখা গেলো প্যারাসুট মাত্র তিনটি।
আমলা একটি প্যারাসুট নিয়ে বললেন, �আপনারা অবশ্যই স্বীকার করবেন যে, প্যারাসুটে আমার অগ্রাধিকার রয়েছে। বাংলাদেশে আপনাদের মত হাজার হাজার নেতা আছে, লক্ষ লক্ষ স্কুল ছাত্র রয়েছে, কিন্তু, আমলার সংখ্যা খুব কম। নেতা গেলে নেতা পাওয়া যাবে, কিন্তু, একজন দক্ষ আমলা সহজে পাবেন না।�
এই কথা বলে আমলা প্যারাসুট নিয়ে ঝাপ দিলেন।

আওয়ামী লীগের নেতা বললেন, �আমরা এদেশের স্বাধীনতা এনেছি, আমরা স্বাধীনতা না আনলে এই প্লেন হতো না, প্যারাসুট হতো না, তাই এই প্যারাসুটের উপর অধিকার সবথেকে বেশী আমার।�
তিনিও ঝাপ দিলেন।
এখন যাত্রী দুইজন, প্যারাসুট মাত্র একটি, যে কোন সময় প্লেনটি বিস্ফোরিত হতে পারে।
তখন বিএনপির নেতাটি একটা প্যারাসুট বালককে এগিয়ে দিলেন। সে তো বিস্ময়ে, কৃতজ্ঞতায় কেদে ফেললো, �আমাদের দেশেও এতো হৃদয়বান ত্যাগী রাজনীতিক আছেন, যিনি তার নিজের জীবনের বিনিময়ে সামান্য একজন স্কুল ছাতের জীবন বাচাচ্ছেন!�
কিন্তু, বালকটি প্যারাসুট নিলো না। বললো, আমি এখন দেশের জন্য কিছুই করতে পারবো না। প্যারাসুটটি বরং আপনি নিন, তাতে জাতি অনেক কিছু পাবে।
বিএনপি নেতা মুচকি হেসে বললেন, �আমার প্যারাসুট আছে, আওয়ামী লীগ নেতা বেশী তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে তোমার স্কুল ব্যাগ নিয়ে ঝাপ দিয়েছেন।

শমসের মুবিন চৌধুরী : জেল কোড অনুযায়ী চিকিৎসা পাইনি


পঁচিশ দিন কারাবাসের পর শারীরিক বা মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শমসের মুবিন চৌধুরী। তিনি এখনো বিপর্যস্ত বলে জানান। শিগগিরই সুচিকিৎসার জন্য দেশের বাইরেও যেতে পারেন সদ্য কারামুক্ত বিএনপির এই নেতা। মিথ্যা মামলায় আটকে রাখার অভিযোগ করে তিনি বলেন, 'জেলকোড অনুযায়ী আমি চিকিৎসাসেবা পাইনি।' গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় আঘাত পাওয়া পায়ের ক্ষতস্থানে তীব্র ব্যথা অনুভব করছেন। কারাগারে থাকাবস্থায় ওই ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করে। কিন্তু সেখানে কোনো সুচিকিৎসা করাতে পারেননি। উন্নত চিকিসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সরকারের কোনো সহযোগিতা পাননি বলে জানান তিনি।

তার এ মুক্তির জন্য দলের নেতা-কর্মীদের ভূমিকার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি আইনজীবীদেরও ধন্যবাদ জানান। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারারাগ থেকে মুক্তি পেয়ে রাতেই বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করেন শমসের মুবিন। গতকাল সারা দিনই বিশ্রামে ছিলেন।

বিএনপির এই সহসভাপতি বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জামিনে মুক্তি পান। বুধবার তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেলেও প্রক্রিয়াগত কারণে মুক্তি পাননি। ২৭ জুন বিএনপির হরতালের আগের রাতে রাজধানীতে গাড়িতে অগি্নসংযোগের মামলায় শমসের মুবিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

৭১ এবং ২০১০ পরবর্তী আওয়ামীলীগ: হত্যা, খুন আর নির্যাতনের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি 2

স্বাধীনতার যুদ্ধের কারন, সেই সময়ের বিভিন্ন জানা অজানা ইতিহাস নিয়ে লেখার ইচ্ছা অনেক আগে থেকে এই কথা আপনাদের আগেই বলেছি। এই উদ্দ্যশ্যে আমার কর্ম ততপরতাও আপনাদের জানিয়েছি গত লেখায়। কিন্তু প্রতিকুল পরিবেশ হওয়ার কারনে আমার কাজ অনেকটাই থেমে গেছে। সব খানেই সবাই কেমন যেন সত্য কথা বলতে ভয় পাচ্ছে। কিছুদিন হল আলীগ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের তোড়জোড় শুরু করেছে। এটাকে যুদ্ধাপরাধী না বলে বলা হয়েছে মানবতা বিরোধী বিচার। যেই বিচারিক কর্মকান্ডের আওতায় শুধু জামায়াত ইসলামী আর আলীগ বিদ্বেশীরা আসবে। যদিও জানি আমার এই লেখা বাঙলাদেশের কোন কিছুরই কোন পরিবর্তন আনবে না। তারপরও লেখা দরকার। কারন মানুষকে জানতে হবে কি ঘটেছিল ৭১ এ।

শেখ মুজিবের ব্যাপক জনপ্রিয়তার অন্যতম কারন ছিল তিনি সব মানুষের কথা বলেছিলেন স্বাধীনতার পুর্বে। যার কারনে ছোট থেকে বড়, হিন্দু থেকে মুসলিম, বাংগালী থেকে বিহারী, গরিব থেকে ধনী, সকলেই তার আহ্বানে এগিয়ে এসেছিল। বিহারীদের একটা অঙশের সাথে বরাবরই বাঙগালীদের একটা বিরোধ ছিল। দুই পক্ষের মধ্যেই ছিল চাপা ক্ষোভ যা কিনা বের হয়ে আসছিল না পরিবেশের অভাবে। এইটা জানতেন শেখ মুজিব। এই ব্যপারে দিক নির্দেশনাও তার ছিল। কি বলেছিলেন তিনি সেদিন??
২ রা মার্চ ৭১, শেখ মুজিবের ভাষনের অঙশ বিশেষ

““ জনসাধারনকে সব সময় উষ্কানী দাতাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে ভাষা ও জন্ম স্থান নির্বিশেষে বাঙলাদেশে বসবাসকারী সকলেই আমাদের লোক। তাদের জান মাল ও সম্পদ সকলই আমাদের কাছে আমানত। এবং এগুলো অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।একই কখার পুনরাবৃত্তি করে শেখ মুজিব বলেন আপনারা গুন্ডা আর লুটেরাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ান। ””
শেখ মুজিব বাঙলাদেশের সকল মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিলেও তিনি ব্যাথৃ হয়েছিলেন তার দলের লোকদের নিয়ন্ত্রনে। তারই প্রতিফলন ঘটে কিছুদিন পরেই। স্বাধিনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরই শুরু হয় আওয়ামী গুনডাদের তান্ডব লীলা।যেখানেই তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলেছে সেখানেই চলেছে ভয়াবহ হত্যাযগ্গ যা কিনা হিটলারের নৃশঙসতাকেও লজ্জায় ফেলে দেয়।


++ বগুড়া জেলার শান্তাহারে ১৫ হাজারের বেশি লোককে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। মহিলাদের উলংগ করে রাস্তায় ঘুরানো হয় ।

++ চট্রগ্রামে ১০ হাজারের বেশি লোককে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে ছোট একটি এলাকাতেই আড়াইশো মহিলা ও শিশুকে বেয়নেট দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

++ সিরাজগন্জে সাড়ে তিনশত মহিলা ও শিশুকে একটি হলে তালাবদ্ধ করে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। ফলে তারা সবাই জীবন্ত পুড়ে মারা যায়।

++ ময়মানসিঙহের সানকিপাড়া এলাকায় দুহাজার পরিবারের একটি কলোনিকে সম্পুর্ন নিশ্চহ্ন করা হয়। পুরুষদের ঘর থেকে বের করে গুলি করে মারা হয় আর মহিলাদের গন ধর্ষন করা হয়। এরপর তাদের দিয়ে তাদের পুরুষদের কবর খোড়ানো হয়। অবশেষে মহিলাদেরও হত্যা করা হয়।

++ ১৯৭১ সালের ৩ ও ৪ মার্চে আওয়ামীলীগের বিক্ষুব্ধ সন্ত্রাসীরা চট্টগ্রামের ওয়ারলেস কলোনিতে আক্রমন করে ব্যাপক লুটতরাজ করেছিল। সেখানে তারা মহিলাদের ধর্ষন আর ও পুরুষদের হত্য করে। পরে সেখানে শেখ মুজিব পরিদর্শনে যেয়ে জনগনের কাছে এইসব সন্ত্রাষিদের দমনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অনুরোধ করেন।

++ ফিরোজ শাহ কলোনীতে ৭০০ ঘর লোক পুড়িয়ে মারা হয়।

উপরোক্ত তথ্য EAST PAKISTAN DOCUMENTATION SERIES : বাঙলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ, ৭ম খন্ড থেকে নেয়া। পৃ: ৩১৯, ৩২১, ৩২২

++ নয়া দিল্লির স্টেটসম্যান পত্রিকা ৪ঠা এপ্রিলে বলে :
“পাকিস্তানের পুর্বান্চলের আটকা পড়া অবাংগালী মুসলমান সব সময় উত্তেজনার শিকার হয়েছে। ”

“ ৬ই এপ্রিল লন্ডনের দি টাইমস পত্রিকায় খবর ছিল দেশ বিভাগের সময় হাজার হাজার অসহায় মুসলিম অবাংগালী ক্ষুব্ধ বাংগালীদের হত্যা যগ্গের স্বীকার হয়। ”

“ ২৮ শে এপ্রিল নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর হল ৩৫ হাজার বাংগালী আর কয়েক হাজার পাঠান ও অন্যান্য অবাঙগালী পুর্ব পাকিস্তানে নৃশংস ভাবে নিহত হয়।”

টরেন্টো ডেইলি স্টারে তথ্যমতে সরকারী হিসাবে সাম্প্রদায়িক সঙঘাতে পূর্ব পাকিস্তানে মে মাসের ৮ তারিখের পুর্ব পর্যন্ত ৩০ হাজার অবাংগালী নিহত হয়েছে।

এই হল আওয়ামীলীগের নৃশংশতার ক্ষুদ্র একটা চিত্র। এটা যদি মানবতা লংঘনের মধ্যে না পড়ে তাহলে আমার মনে হয় মানবতা বলতে কিছু নাই। আমার ফুফা একজন মুক্তিযুদ্ধা তাকে বলেছিলাম যে ফুফা, এগুলো কি সত্য?

ফুফা বলেন বাবা যুদ্ধের সময় এরকম অনেক কিছুই ঘটে। হয় তাই হবে। তাইতো একাত্তরে আওয়ামীলিগের লোকেরা কিছু করলে সেটা হয় মুক্তিযুদ্ধ। আর অন্য কেই কিছু করলে সেটা হয় যুদ্ধাপরাধ।


এরপরের পর্বে থাকভে আওয়ামীলিগের লোকেরা কিভাবে বিভিন্নকায়দায় নৃশংসভাবে মানুষ খুন করে তারই কিছু ইতিহ্স।

ছাত্রলীগের আন্দোলনে ইবি অচল : পুলিশের লাঠিচার্জ ও হামলায় আহত ৩০


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের আন্দোলন পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বাস ভাংচুর, সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও পুলিশের লাঠিচার্জে শিক্ষক-ছাত্রসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে ১০ ছাত্রকে। এছাড়া বন্ধ হয়ে গেছে ক্লাস ও পরীক্ষা।
জানা যায়, নবগঠিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে খসরু-মাহবুব পক্ষ পদবঞ্চিত গ্রুপ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গতকাল সকাল সাড়ে ৭টায় কুষ্টিয়া শহর থেকে ক্যাম্পাসমুখী ছেড়ে আসা শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীদের বাস আলামপুর এলাকায় অবরোধ করে বাসের চাবি ছিনিয়ে নেয়। পরে পুলিশ পাহারায় বাস ক্যাম্পাসে যাওয়া শুরু করলে ছাত্রলীগ বাসে হামলা চালিয়ে দুটি বাস ভাংচুর করে। এ সময় ৭ জন ছাত্রছাত্রী আহত হয়। আহতরা হলো চম্পা, রোজী, আকব্বর, লিটন, শাহীন, মামুন ও জিল্লুর।
ছাত্রলীগের হাতে ৭ ছাত্রছাত্রী আহত হওয়ার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে ক্যাম্পাসের বাসে থাকা ছাত্রছাত্রীরা বৃত্তিপাড়া এলাকায় ক্যাম্পাসের গাড়িসহ কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কের সব গাড়ি অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহজাহান আলী, প্রক্টর মাহবুুবুল আরফিন ও ছাত্র উপদেষ্টা ড. সাইদুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বাস বৃত্তিপাড়া থেকে কুষ্টিয়া শহরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। বাস কুষ্টিয়া শহরের কাস্টম মোড়ে পৌঁছলে সাধারণ ছাত্ররা আবারও কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। অবরোধ তুলতে পুলিশ ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এ সময় সহকারী প্রক্টর ও আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার তৌহিদুল আনামসহ ২০ ছাত্র আহত হয়। এ সময় পুলিশ ১০ ছাত্রকে আটক করে। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
আহতদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল ও সনো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ছাত্রলীগের কোন্দলে বারবার ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের প্রতিবাদে এবং ব্যর্থ প্রশাসনের পদত্যাগের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ১০টায় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান তুহিনের নেতৃত্বে একদল কর্মী শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করে এবং শিক্ষকদের গাড়ি আটকে দেয়। এরপর ছাত্রলীগ মেইন গেটে বিক্ষোভ মিছিল করে।
দুপুর ২টায় ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস কর্নারে সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অছাত্র, পেশাজীবীদের দিয়ে গঠিত কমিটি বাতিল, প্রক্টরের পদত্যাগ, গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কর্তৃক ২০ নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। দাবি আদায়ে গতকাল থেকে ক্যাস্পাসে লাগাতার ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ কর্মী শিমুল, মুকুট, মিরাজ, ঝংকার, জাহিদ প্রমুখ।
ইবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান তুহিন বলেন, প্রশাসনের ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে একদল সন্ত্রাসী বারবার ক্যাম্পাস অচল করছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।
প্রক্টর মাহবুবুল আরফিন বলেন, আমরা ক্যাম্পাস শান্ত ও সচল করার চেষ্টা করছি। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শহীদ মোহাম্মদ রেজওয়ান এক বিবৃতিতে বলেন, প্রশাসনের ব্যর্থতার সুযোগে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বারবার বিশ্ববিদ্যালয় অচল হচ্ছে। আমরা ছাত্রলীগ কর্তৃক শিক্ষক লাঞ্ছিত ও পুলিশের হাতে শিক্ষক আহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। একই ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও জাসদ।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৭ বছর পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কাউন্সিল হয়।
কাউন্সিলের তিন মাস পর গত ১৯ মে ছাত্রলীগের কেন্দ্র থেকে জাহাঙ্গীর হোসেনকে সভাপতি এবং শামসুজ্জামান তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে ইবি ছাত্রলীগের ৫ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কেন্দ্র ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে পদবঞ্চিত খসরু এবং নবগঠিত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুজার গিফারী গাফ্ফার ও আনিচুজ্জামান লিটনের অনুগত নেতাকর্মীরা আন্দোলন শুরু করে। কমিটিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’পক্ষে গত তিন মাসে তিনবার সংঘর্ষ হয়।

মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবি ঢাকা বারের ১৪৫৩ আইনজীবীর

দৈনিক আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির ১ হাজার ৪৫৩ আইনজীবী। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, সময়ের সাহসী সৈনিক মাহমুদুর রহমান সরকারের প্রতিহিংসার শিকার। তাকে গ্রেফতার করে এবং আমার দেশ-এর প্রকাশনা অন্যায়ভাবে বন্ধ করে সরকার ফ্যাসিবাদী মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে। আইনজীবী নেতারা অবিলম্বে মাহমুদুর রহমানকে মুক্তিদান এবং সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে আমার দেশ-এর প্রেস খুলে দেয়ার দাবি জানান।
বিবৃতিদাতারা হলেন : ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, বারের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমদ তালুকদার, লুেফ আলম, খোরশেদ আলম, বোরহানউদ্দিন, মহসিন মিয়া, আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান, গোলাম মোস্তফা খান, সাইদুর রহমান, গোলাম আরশেদ, খন্দকার দিদারুল ইসলাম, মো. খোরশেদ মিয়া (আলম), হারুন উর রশিদ ভূঁইয়া, মোসলেহউদ্দিন জসিম, হারুনুর রশিদ খান, ওমর ফারুক ফারুকী, হোসেন আলী খান, আবুল খায়ের, আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া, আজমল হোসেন, জাকির হোসেন ভূঁইয়া, আমিরুল ইসলাম আমির, আবু ইউসুফ সরকার, জয়নাল আবেদীন মেজবাহ, ফরিদুল ইসলাম ফরিদ, আবদুল্লাহ আল মামুন, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, কাজী মো. সেলিম, আবুল কালাম খান, মহিউদ্দিন চৌধুরী, বেলাল হোসেন জসিম, জহিরুল হক জহির, মনির হোসেন, আবদুর রাজ্জাক, গাজী তৌহিদুল ইসলাম, শামিমা আক্তার শাম্মি, তাবাস্সুম রিফাত টুম্পা, আরফান উদ্দিন খান, সাহিনা হক বিউটি, লিপি আক্তার, জাকিয়া আনারকলি, জাহানারা বেগম, শিল্পী আক্তার, জাহানারা সরকার, তাহমিনা আক্তার হাসেমী প্রমুখ।